নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও আপাতত আগের হারেই ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে ভাতা পেতেন, পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত সেই হারেই ভাতা দেওয়া হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ফলে নতুন বেতনকাঠামোয় মূল বেতন বাড়লেও বাড়তি ভাতার জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে।
অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে বলা হয়েছে, নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত ভাতা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মে ভাতা দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোয় ভাতা কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হলেও তা একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধির সুবিধা ধাপে ধাপে মিললেও ভাতার ক্ষেত্রে আপাতত পুরোনো হারই বহাল থাকছে।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজও চলছে। এ জন্য আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হচ্ছে কর্মচারীদের। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং আগের মূল বেতনের তথ্য যাচাই করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ কার্যক্রম ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রমতে, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থও পেতে পারেন। তবে গ্রেড, বর্তমান বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ অনুযায়ী বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য হবে।
নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, মূল বেতনের বর্ধিত অংশ পর্যায়ক্রমে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে ভাতা বৃদ্ধির সুবিধা পেতে কর্মচারীদের ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.