মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার পেছনে নৌ-পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, জেলেদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসহায়তার চাল না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতি বছর আশ্বিনের পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে প্রজননের জন্য সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে আসে। এ সময় মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটারসহ দেশের ৩৮টি জেলায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কিছু জেলেকে নদীতে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নৌ-পুলিশকে ঘুষ দিয়ে একটি অসাধু চক্র দিন-রাত ইলিশ শিকার করছে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম সাত দিনে অর্ধশত জেলেকে জেল-জরিমানা করা হলেও অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ হয়নি।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ ২৫ কেজি করে চাল অনেকেই এখনো পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের দাবি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় জীবিকার তাগিদে তাদের নদীতে নামতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে দোকানদার ও রিকশাচালকের মতো পেশার মানুষের নামও সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আবদুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্বল্প জনবল নিয়েই নদীতে টহল পরিচালনা করতে হচ্ছে। জেলেদের সঙ্গে আঁতাত ও অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না।”
লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে অভিযান চলছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫৪ হাজার। তাদের মধ্যে এখনো প্রায় ১২ হাজার জেলে খাদ্যসহায়তা পাননি। নদীপাড়ের বাসিন্দারা প্রকৃত জেলেদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা এবং জেলেদের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.