গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দ করা মালিকবিহীন ৯টি ঘোড়ার মধ্যে একটি মারা যাওয়ার পর অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ৩০ হাজার ৫০০ টাকায় ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ রাতে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোপাচালা সরকারি বনের ভেতরে মালিকবিহীন ৯টি ঘোড়া দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘোড়াগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে।
এরপর ঘোড়াগুলোর মালিকানা শনাক্তে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও কেউ মালিকানা দাবি করেননি। এ অবস্থায় ২৪ মার্চ উপজেলা প্রশাসন আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তবে এর মধ্যেই একটি ঘোড়া বাচ্চা প্রসবের সময় মারা যায়। ফলে অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া নিলামের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত নিলামে স্থানীয় একাধিক দরদাতা অংশ নেন। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা মো. ইসমাইল হোসেন ৩০ হাজার ৫০০ টাকায় ৮টি ঘোড়া ক্রয় করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোড়াগুলো তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘোড়া বিক্রির অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।
খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ঘোড়াগুলো জব্দ করার পরই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয় এবং পরবর্তী সব কার্যক্রম প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্য বা থানার পক্ষ থেকে ঘোড়া বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি আরও বলেন, জব্দ করা ৯টি ঘোড়ার মধ্যে একটি বাচ্চা প্রসবের সময় মারা যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া বিক্রি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান।
