ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবকে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকায় ভুক্তভোগীরা কৌশলে তাকে আটক করেন।
ঘটনার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাহি চৌধুরী অর্ণবকে তার সব সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাহি নিজেকে ক্যাটফুড ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন। তিনি দাবি করতেন, তার ২০ থেকে ২২টি দোকান রয়েছে এবং বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করেন। আশিকুজ্জামান মোল্লা নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “আরও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমরা তাকে কৌশলে আটক করি। পরে জানতে পারি, আমাদের মতো আরও অনেকে তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।”
হিমেল নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, মাহি তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেন। কিছু অর্থ ফেরত দিলেও এখনও ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাকি রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একই কৌশলে ঢাবির একাধিক শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মাহি।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, মাহির বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা তার অবস্থান নিশ্চিত করলে পুলিশ তাকে আটক করে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি বলেন, মাহির বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ আসছিল। ইতোমধ্যে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
