রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে চলছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬’। পাক্ষিক পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা দ্য বাংলাদেশ মনিটর এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন এয়ার অ্যাস্ট্রা, পাশাপাশি সহযোগিতায় রয়েছে এয়ার অ্যাস্ট্রা ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ সদস্য এম নাছের রহমান মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি গত ২১ বছর ধরে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ মনিটরের ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় দিনে মেলায় উপচে পড়া ভিড়ে জমে উঠেছে পুরো আয়োজন।
৯ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান টিকিটে বিশেষ ছাড়, ট্যুর প্যাকেজ, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং এবং মেডিকেল ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন সেবায় আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এয়ার অ্যাস্ট্রা, ছুটি গ্রুপ, গোল্ডস্যান্ড গ্রুপ, এএমডিএ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ভিক্টোরি ট্যুর, কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, এয়ারপিডিয়া, থাইল্যান্ডের মেডপার্ক হাসপাতাল, এয়ার চায়না, ভিজথাই ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল, রয়েল পার্ল সুইটস হোটেল, সৌদি আরবের কারাম আল হেজাজ হোটেল এবং শুরা হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি স্টলেই দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নানা আকর্ষণীয় অফার।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, এখানে বিমান ভাড়া, হোটেল বুকিং এবং ট্যুর প্যাকেজ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য জানা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। তারা মেলার সার্বিক পরিবেশকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল উল্লেখ করে প্রতি বছর এমন আয়োজনের দাবি জানান।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভ্রমণ, বিমান চলাচল ও আতিথেয়তা খাতের সেবা তুলে ধরতে নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, চীনসহ বাংলাদেশ থেকে ৫০টিরও বেশি সংস্থা অংশ নিয়েছে। মেলায় রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন ও ৮০টিরও বেশি বুথ।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, তাদের হলিডে প্যাকেজগুলো নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মালদ্বীপ, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও কলকাতাসহ জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কাস্টমাইজড প্যাকেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিদ্যমান প্যাকেজগুলো আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঈদের পরবর্তী ছুটি বা গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের পরিকল্পনাকারীদের জন্য মেলার অফারগুলো বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এসব বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র মেলা চলাকালীন ১ নম্বর প্যাভিলিয়নের স্টল থেকে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মেলার পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, জিডিএস প্রতিষ্ঠান স্যাবর এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বাইটিকিটস।
সালাউদ্দিন/সাএ
