মানিকগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থী আতিকা আক্তার (৮) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত কিশোরের পিতা ও চাচা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে সৌদি প্রবাসী দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার খোঁজ চালানো হয়।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৫টার দিকে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের সময় বাড়ির বাইরে খেলছিল আতিকা। একপর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে তথ্য আসে যে, প্রতিবেশী কিশোর নাঈম (১৫)-এর সঙ্গে তাকে শেষবার দেখা গেছে। সন্দেহের ভিত্তিতে স্থানীয়রা নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়, যেখানে রাত ১০টার দিকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। তবে সেখান থেকে নাঈম পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা নাঈমের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাবা অটোরিকশাচালক পান্নু (৪৫), চাচা ফজলু (২৮) এবং বড় ভাই নাজমুল (২০)-কে মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই পান্নু ও ফজলু নিহত হন। গুরুতর আহত নাজমুলকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুহত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গণপিটুনিতে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে একদিকে শিশুহত্যার ঘটনায় শোকাহত পরিবার, অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহতদের পরিবার—দুই পক্ষেই শোকের মাতম বিরাজ করছে।
