ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘তোসকা’ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। জাহাজটিতে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, জাহাজটি ছোট আকারের একটি কনটেইনার ভেসেল, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইনস-এর অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
রোববার ওমান উপসাগর-এ ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজটিতে উঠে সেটি দখলে নেয়। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজটি সর্বশেষ অবস্থান জানিয়েছিল গ্রিনিচ মান সময় ১৩:০৮ মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ছয় ঘণ্টা ধরে একাধিকবার সতর্ক করার পরও জাহাজের ক্রু নির্দেশনা মানেনি।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটিতে এমন পণ্য থাকতে পারে যা বাণিজ্যিক ও সামরিক—দুই ধরনের কাজে ব্যবহারযোগ্য। তবে কী ধরনের পণ্য রয়েছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আগেও জানিয়েছিল, ধাতু, পাইপ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের মতো পণ্য সামরিক ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে—এ ধরনের চালান সন্দেহের আওতায় পড়ে।
ইরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজটি তাদের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘন করছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, অতীতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজটি মার্চের শেষ দিকে চীনের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করে কনটেইনার লোড করে এবং পরে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকেও পণ্য সংগ্রহ করে।
চীন এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে জাহাজে কী ধরনের পণ্য রয়েছে, তা যাচাই করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
