আমি হুমায়ূন আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ : দিলারা জামান

X
সংগৃহীত ছবি
নন্দিন কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখায় সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না, স্বপ্ন-বাস্তবতা আর জীবনের টানাপড়েন ভীষণ জীবন্ত। পাঠকরা মনে করেন- এই গল্পগুলো যেন তাদেরই জীবন থেকে নেওয়া। বহুমাত্রিক এই শিল্পস্রষ্টা তার কাজের পরিধি দুই মলাটে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং ছোট ও বড়পর্দায়ও নিজেকে মেলে ধরেছেন।
হুমায়ূন আহমেদ রচিত ও নির্দেশিত নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান। প্রয়াত এই শিল্পীকে নিয়ে দিলারা জামান বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার আগে সর্বশেষ কাজ করেছি ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে। হুমায়ূন আহমেদ একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। আজ উনি আমাদের মাঝে নেই। শিল্প-সংস্কৃতিতে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা অপূরণীয়।’
হুমায়ূন আহমেদের কারণে নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করেছেন দিলারা জামান। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি তখন মাত্র চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। ঢাকায় আসার পর উনি ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকে ‘টুনির দাদি’ চরিত্র আমাকে দিয়ে করান। সেই চরিত্রের কারণে আমি দিলারা জামান নিজেকে অন্যভাবে আবিষ্কার করলাম এবং দর্শক আমাকে গ্রহণ করলেন।’
‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘নক্ষত্রের রাত’সহ হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান। কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কম কথা বলতেন। কিন্তু এমন একটি কথা বলতেন, যার জন্য উনি হাসতেন না। তবে সংলাপটা শেষ হওয়ার পর, সেই মানুষটা এত হাসতেন, যা ব্যাখ্যাতীত। তবে এই হাসিটা সুড়সুড়ি টাইপের ছিল না।
এরকম একটা শক্তি হুমায়ূন আহমেদের ভেতরে ছিল। দর্শককে ধরে রাখার শক্তি ছিল। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল স্বতন্ত্র, সবার চেয়ে আলাদা। তার সঙ্গে যারা মিশেছেন, কাজ করেছেন, তারা জানেন। তার গল্প-উপন্যাস, নাটকের চরিত্রগুলো ভিন্নতায় আলোকিত। আমি সবসময় হুমায়ূন আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ। উনাকে স্মরণ করি।’
শুটিং সেটের ঘটনা বর্ণনা করে দিলারা জামান বলেন, ‘শুটিং সেটে চুপচাপ বসে থাকতেন হুমায়ূন আহমেদ। তবে দৃশ্য বা সংলাপ ডেলিভারি যদি অপছন্দ হতো, তবে সেটা পুনরায় করাতেন। অর্থাৎ উনি বলতেন, ‘এটা অন্যভাবে দেখেন’। কিন্তু নিজে বলে দিতেন না, এইভাবে করেন। পুরোটাই অভিনয়শিল্পীর উপর ছেড়ে দিতেন। শুরুতে বুঝতে পারিনি, পরবর্তীতে যখন অন্য পরিচালকের কাজ করি, তখন উপলদ্ধি করতে পারি উনার শূন্যতা।’
নাট্যকার ও পরিচালক হুমায়ূন আহমেদকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এমন প্রশ্ন রাখা হয় দিলারা জামানের কাছে। জবাবে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ক্ষুদ্র মানুষ। অন্য যারা আছেন, তারা মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি তার অভাবটা প্রতিক্ষণে অনুভব করি। এই অভাব অপূরণীয়। আমার তৃপ্তির জায়গা হলো, আমি উনার অনেক কাজ করেছি। উনার কাজ করে আমি সমৃদ্ধ, ঋদ্ধ হয়েছি।’