ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর বিক্ষোভ নিয়ে ভারতের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, যেখানে দেশটির মুসলিম যুবকদের এই বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপি সমর্থকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠেছে: নেতিবাচক এসব ভাইরাল ভিডিও কি বিক্ষোভের মূল দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে? উল্টো দিকে, দেশজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা ও টি-শার্টের বিক্রিও বেড়েছে।
শনিবারের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবগঠিত এই সংগঠনটিকে নানা দিক থেকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। শুধু একটি মন্তব্যের মাধ্যমে যে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে, তা আসলে কী চায়, তা নিয়ে কৌতূহল তীব্র।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের মুসলিম যুবকদের সাবধান করে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ছয় বছর আগে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) পাসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। তখন শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া নারী নেতৃত্বাধীন আন্দোলন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দিল্লি ও আসামে সহিংসতা এবং প্রাণহানি ঘটার ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, মসজিদের ঘোষণা, ইনস্টাগ্রাম রিল এবং এক্স পোস্টের মাধ্যমে যুবকদের সতর্কবার্তা ছড়ানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, যদিও বিক্ষোভ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী, এর প্রভাব বছর ধরেই চলতে পারে।
এদিকে, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ফেলে যাওয়া খাবারের ট্রে, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও অন্যান্য আবর্জনার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, নেতিবাচক এই ভিডিওগুলো কি বিক্ষোভের মূল দাবিগুলো থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, পরিবর্তনের কথা বলা তরুণদের উচিত জনস্বাস্থ্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দেওয়া।
তবে ভাইরাল নেতিবাচক ছবির বিপরীতে সিজেপির জনপ্রিয়তাও কিন্তু থেমে নেই। এরইমধ্যে ভারতজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা এবং টিশার্ট বিক্রি বেড়েছে। ৩০ রুপিতে তেলাপোকার মুখোশ এবং আড়াইশো রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে সিজেপির লোগোযুক্ত টি-শার্ট। তবে লোগো নিয়ে এই বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিয়েও বিতর্ক জন্ম নিয়েছে। অনেকে দাবি করছে, এতে প্রতিবাদের মূল বার্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কুশল/সাএ