খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের আশপাশে গড়ে উঠেছে চারটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান হওয়ায় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে আসা রোগীদের একটি অংশ সেবা নিতে এসব প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, সেবার মান ও সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি না দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা এসেছে। এ নির্দেশনার পর কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কের পাশে রয়েছে ডক্টর’স কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জায়গীর মহল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হদয় প্যাথলজি এবং আনিসা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজনকে এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিতে দেখা যায়।
এ সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের দেখা যায়নি। তবে আনিসা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স শ্যামলীকে হাসপাতালের ডিউটিরত পোশাকে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুন্দরবনসংলগ্ন এ উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও শয্যাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উঠে আসছে। এসব কারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে যেতে হয় বলে জানান রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন আল আমিন হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয়। সামনে ক্লিনিক থাকায় সেখানেই যেতে হয়। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ ও সেবার মান নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা দরকার।
জায়গীর মহল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আমিরুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, অবকাঠামো, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। আমরা এসব শর্ত পূরণ করেই ক্লিনিক পরিচালনা করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতালের সামনের ক্লিনিকগুলোর সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে জেলায় প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
হাসপাতাল চলাকালে সিনিয়র নার্সকে বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, নতুন নির্দেশনা পাওয়ার পর কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা নিবন্ধন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। শিগগির অভিযান চালানো হবে।