
ছবি: প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের তপন(২৮) হত্যা মামলার পলাতক আসামি মন্টু শাহ(৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(২০ জুন) র্যাব-১২-এর সহযোগিতায় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মন্টু শাহ হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পুরাতন পাড়ার ফজল আলীর ছেলে। নিহত তপন একই গ্রামের হিন্দুপাড়ার মজিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তপনকে কল্যাণপুর গ্রামের হাজীপাড়া এলাকার একটি পেঁপে বাগানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম আসামি মন্টু শাহকে শনাক্ত করে র্যাব-১২-এর সহযোগিতায় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
নিহতের স্ত্রী রুপা খাতুন জানান, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত প্রায় ১১টার দিকে তপন বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মরিচ ও কলার ক্ষেত দেখতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি জমি দেখতে গিয়েছিলেন। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন তপন বাড়ি ফেরেননি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে কল্যাণপুর গ্রামের হাজীপাড়ার একটি পেঁপে বাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তপনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল করিম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই তপনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুপা খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২২, তারিখ: ২২/১২/২৫ ইং। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মন্টু শাহকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি।