বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত ‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ শেষ হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে পুরুষ ও নারী বিভাগের গ্র্যান্ড ফাইনাল, পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হয়।
পুরুষ বিভাগের ফাইনালে বান্দরবান সদর উপজেলা দল ১-০ গোলে আলীকদম উপজেলা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেললেও শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর।
নারী বিভাগের ফাইনালে থানচি উপজেলা নারী দল চ্যাম্পিয়ন এবং বান্দরবান সদর উপজেলা নারী দল রানার্সআপ হয়েছে।
টুর্নামেন্টে নারী বিভাগের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন রিংকি মারমা। সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন মাপ্রুচিং মারমা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন দীপা চাকমা।
পুরুষ বিভাগে সেরা গোলকিপারের পুরস্কার পেয়েছেন ইমন বড়ুয়া। সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাফর ইকবাল।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
অনুষ্ঠানে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি; বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিসেস মাম্যাচিং; বান্দরবান সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি; জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস; বান্দরবান রিজিয়নের জিএসও-২ মেজর পারভেজ রহমান; জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট অরূপ রতন পাল; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. ফরহাদ সরদার এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ ঘিরে বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও জোরদার হয়েছে।