ঢাকা: ২০২৬-২৭ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার নিত্যদিনের বাজারের দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ জিনিস। তবে জোগান বেশি থাকায় শাক সব্জির বাজার ক্রেতারা খুশি। আর মাছ মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চালের দাম বাড়ায় সব খুশি বিলীন হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর বাজেট দিলে এসবের দাম বাড়লেও এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। কিন্তু চালের দাম ক্রেতাদের চাপে ফেলেছে।
বাসাবো কাঁচাবাজারে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি, ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর কাঁচা বাজার। হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে অনেক সবজির দাম। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা। তার উপরে বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি সবজি।
বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ১০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। গোল বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি। শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের পরে বাজারের অনেক সবজি চাষ করা হয়। পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লতি, ধুন্দুল। এসব সবজিগুলো পর্যাপ্ত রয়েছে। এসব ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়।
বাজারে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে আর কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সদ্যই ঘরে উঠেছে বোরো মৌসুমের নতুন ধান। গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর বাজারগুলোতে চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। তবে মাসখানেক না যেতেই সেই স্বস্তি উধাও।
তবে চালের বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে ডিম ও মুরগির বাজার। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেশ কমেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবজি, পেঁয়াজ ও আলুর দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যও চালের দাম বৃদ্ধির এই চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে চিকন চালের দাম সর্বনিম্ন ৭০ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বেড়ে ৭২ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা।
ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভালো মানের যে চিকন চালের দাম কিছুদিন আগে ৩ থেকে ৫ টাকা কমে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বাজারে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাঝারি ও মোটা চালের ওপর। টিসিবির হিসাবে, মাঝারি মানের চালের দাম ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে যে মাঝারি মানের চাল ৫২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক মাস আগে ৪৮ টাকায় নেমে যাওয়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়।
মুদি দোকানি রহিম মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে কিছুদিন ধরেই চালের দাম বাড়তি। বেশি দামে কেনার কারণে আমাদেরও খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তবে যেসব ব্যবসায়ী সম্প্রতি পাইকারি বাজার থেকে নতুন করে চাল কেনেননি, তাদের কেউ কেউ এখনো আগের দামেই চাল বিক্রি করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কোরবানির ঈদের সময় পরিবহন সংকটের কারণে চালের সরবরাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়াও চালের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।