শনিবার জোহরের নামাজের পর দুপুর দুইটায় সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অশ্রুসিক্ত চোখে ও গভীর শোকের আবহাওয়ায় হাফেজ মাসুম বিল্লাহর ইমামতিতে শত শত মানুষ অংশ নেন এ জানাজায়। সর্বস্তরের মানুষের চোখের জলে ভিজে শেষবিদায় নেন এই প্রিয়মুখ।
জানাজা শেষে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে শেখ আব্দুল আলীমকে শহরের কামালনগর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে গোরস্থান প্রাঙ্গণে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের বিরল ও জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তাঁকে রাজধানী ঢাকার ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর ফুসফুসে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছিলেন। অস্ত্রোপচার শেষে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তীব্র খিঁচুনি ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
দীর্ঘ পেশাগত জীবনে শেখ আব্দুল আলীম ছিলেন এক আপসহীন ও সত্যনিষ্ঠ বস্তুনিষ্ঠতার প্রতীক। দৈনিক পত্রদূতের পাশাপাশি তিনি দৈনিক সদ্যখবর, দৈনিক কাফেলা ও দৈনিক সাতক্ষীরা চিত্র পত্রিকায় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা পরিচালনা করেছেন। শুধু কলম হাতেই নয়, সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় নীরবে-নিভৃতে নিঃস্বার্থ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তিনি অর্জন করেছিলেন মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা।
তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো সাতক্ষীরা জুড়ে এক গভীর শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের কার্যকরী সদস্য এবং ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির কর্ণধারের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করে আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সকল ইলেকট্রনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতি।
সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলীমের এই অকাল প্রয়াণে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী সমিতি ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের সাংবাদিক-কর্মচারীবৃন্দ।