
ফাইল ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলের বি ব্লকের ১৫১ নং কক্ষে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীর ওপর র্যাগিং, যৌন হয়রানিমূলক আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গণিত বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের হাশিবুর রহমান এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচসহ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের র্যাগিংয়ের শিকার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, র্যাগিংয়ের সময় তাদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অসদাচরণ করা হয়, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হয় এবং জোরপূর্বক নাচ-গান করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া মুরগি বানানো, চেয়ার ব্যবহার করতে না দেওয়া এবং হলের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গণিত বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত নিজ কক্ষে পড়াশোনা করছিলেন। পরে কিছু সময়ের জন্য কক্ষের বাইরে বের হলে ৫৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়।
এ সময় পাশের ১৫১ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী এবং ১৫০ নম্বর কক্ষে থাকা ৫৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে হলের ওয়াই-ফাই ব্যবহারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর সবাই নিজ নিজ কক্ষে ফিরে যান। তার দাবি, অভিযোগে বর্ণিত কোনো র্যাগিং বা অসদাচরণের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না। “
তবে এ বিষয়ে শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন,”খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা হলে চলে আসি এবং সংশ্লিষ্ট কক্ষে যাই। সেখানে প্রথম বর্ষের পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থীকে কিছুটা আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পাই। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, পাশের কক্ষের ৫৩ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী তাদের ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলছিল। তারা যেহেতু মাত্র দুই দিন আগে হলে উঠেছে, তাই এমন আচরণে তারা বেশ ভীত ও শঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কারণে অভিযুক্তদের কাউকে হাতে-নাতে পাইনি। তবে একজনকে সন্দেহ করি, যিনি তখন বাথরুমে ছিলেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, নবীনদের সঙ্গে ‘ম্যানার শেখানো’ নিয়ে কথা বলেছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা সময়মতো না পৌঁছালে হয়তো আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা কক্ষ ছেড়ে চলে যায়। এর আগে তারা নবীনদের ভয়ভীতি দেখানো, ম্যানার শেখানোর কথা বলা, গান গাইতে বলা এবং আরও কিছু আচরণ করেছিল, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।”
ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। বিষয়টি কোনোভাবেই আড়াল করার সুযোগ নেই। প্রক্টোরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গেছে এবং অভিযোগের বিষয়ে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযোগে প্রথমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে ঘটনা পর্যালোচনা করবে এবং শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সুপারিশ দেবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শাস্তির ধরন বলা ঠিক হবে না। তবে যতটুকু অপরাধ প্রমাণিত হবে, সেই অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”