অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রবীন রাজনীতিবিদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পর ৫বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশীদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, ১ কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্ময়ি স্বজন রেখে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরবর্তীতে চীফ হুইপ নির্বাচিত হন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রী সভায় তিনি ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট হারুন-অর রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বন পালন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য ছিলেন। কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক গুনাবলীর কারনে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে।