দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে এলজিইডির ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’

X
দক্ষ নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে এলজিইডির ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’
দেশের গ্রামীণ ও নগর জনপদের টেকসই রূপান্তরের এক অনন্য কারিগর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সংস্থাটি আকাশচুম্বী সফলতা দেখিয়ে চলেছে। দেশব্যাপী বিস্তৃত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সচল রাখতে নিয়োজিত আছেন হাজার হাজার দক্ষ প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
সড়ক, সেতু, আধুনিক বাজার এবং স্থানীয় সরকার অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এলজিইডিতে শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সুদূরপ্রসারী ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’। ২০২৩ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ৮৮টি পৌরসভার নাগরিক সুবিধা আধুনিকায়ন করতে এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান প্রধান কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে: ১৫০০ কিলোমিটার আধুনিক সড়ক নির্মাণ, ৯০০ কিলোমিটার টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও পৌর মার্কেটসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ নজর, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে এই মাস্টার প্ল্যান। এর মূল উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয় এবং কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে এই প্রকল্পের কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জবাবদিহিতার অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মাঝে তৈরি হয়েছিল চরম উদাসীনতা। তবে সেই অচলাবস্থা ভেঙে প্রজেক্টে আমূল পরিবর্তন এসেছে বর্তমান প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তোফায়েল আহম্মদের দায়িত্ব নেওয়ার পর।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। কর্তব্যে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি তিনি ৩ জন পৌর প্রকৌশলী এবং ১ জন কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একজন দক্ষ, চৌকস এবং আপসহীন প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত এই পরিচালকের কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে ৮৮টি পৌরসভার কাজে এখন অভূতপূর্ব গতি ফিরে এসেছে।
ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক অগ্রগতি ৫১% ও ভৌত অগ্রগিত ৬২% দেখে বিদেশি দাতা সংস্থার প্রশংসায় ভাসছে প্রকল্পের আঞ্চলিক সমন্বয়েকেরা। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি এই প্রকল্পে যৌথ অর্থায়নে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সম্প্রতি এডিবির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন পৌরসভার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। কাজের উচ্চ গুণগত মান এবং বর্তমান অগ্রগতি দেখে তারা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জনআকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের ৮৮টি পৌরসভাকে ৪টি বিশেষ অঞ্চলে (জোন) ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজের মান নিশ্চিত করা, সময় বর্ধন ও ভেরিয়েশনসহ সার্বিক বিষয়গুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তদারকি করছেন।
সার্বিক অগ্রগতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমদ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে গণমাধ্যমকে বলেন, টেকসই উন্নয়নে আমরা বদ্ধপরিকর। “জনগণের রক্তঘামের টাকায় অর্জিত রাষ্ট্রীয় অর্থের যেন এক পয়সাও অপচয় না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।
একই সাথে দেশের পৌরসভাগুলোর ভৌত অবকাঠামো যেন দীর্ঘস্থায়ী এবং আন্তর্জাতিক মানের হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।
এ ব্যাপারে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সততা ও গতিশীলতা বজায় থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের নগর ও পৌর এলাকার অবয়ব সম্পূর্ণ বদলে যাবে, যা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিষয়টি মাইলফলক হয়ে থাকবে।