রুপালি পর্দার এই দীর্ঘ সফরকে অভিনেত্রী দিশা পাটানি দেখছেন নিজের অভিনয়জীবনের এক অদ্ভুত আবিষ্কারের অধ্যায় হিসেবে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কাজ শেখার ছোটখাটো খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে আজ নিজের অভিনয় নিয়ে মনে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার সবকিছুর চেয়েও বড় রূপান্তর ঘটে গেছে তার নিজের ভেতরে।
পাল্টে গেছে চিন্তাভাবনা, কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেকে জানার পরিধি। প্রথম ছবির সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে দিশা বলেন, তখন সবকিছুই নতুন ছিল। শুটিং সেট কীভাবে পরিচালিত হয়, ক্যামেরার সামনে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, চরিত্র বোঝা কিংবা পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণসহ সবকিছুই শিখতে হয়েছে তাকে।
দিশার ভাষায়, সে সময় তিনি অনেকটাই নিজের সহজাত প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করতেন। এখন অভিনয়ের বিষয়ে তার বোঝাপড়া অনেক বেশি পরিষ্কার। নিজের ওপর আস্থাও বেড়েছে।
তবে আত্মবিশ্বাস যেন কখনো আত্মতুষ্টিতে পরিণত না হয়, সেদিকেও সতর্ক দিশা। তার মতে, অভিনয় এমন একটি কাজ যেখানে শেখার কোনো শেষ নেই। তাই ‘সবকিছু জানি’—এমন জায়গায় কখনো পৌঁছাতে চান না তিনি।
প্রতিটি নতুন চরিত্রের সঙ্গে থাকা অনিশ্চয়তাই অভিনয়কে তার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। বরং অভিনয়ের প্রতি সেই কৌতূহল হারিয়ে ফেলাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দশকে এসে আরও নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান দিশা। শুধু সৌন্দর্য বা শারীরিক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, এমন চরিত্রের বাইরে গিয়ে গল্পের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তার।
মনস্তাত্ত্বিক গল্প, চরিত্রনির্ভর থ্রিলার এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রসমৃদ্ধ অ্যাকশন ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। এমন চরিত্রের সন্ধান করছেন, যেখানে চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্ব ও জটিলতাই গল্পকে এগিয়ে নেবে।
আগামী দিনে আরও ঝুঁকি নিতে চান দিশা। ভিন্ন নির্মাতা, ভাষা ও ঘরানার সিনেমায় কাজ করে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান তিনি।
দিশার স্পষ্ট বক্তব্য, আমি চাই না একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্র বা একটি নির্দিষ্ট ইমেজের মাধ্যমে আমাকে সংজ্ঞায়িত করা হোক।
দশ বছরের অভিজ্ঞতা পেছনে রেখে তাই সামনে আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্র ও গল্পের দিকে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেত্রী।