সাদিয়া জাহান প্রভার ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের পুরোনো ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত ও সেই সময়ের পরিস্থিতির কথা নতুন করে সামনে এনেছেন অভিনেত্রী নিজেই। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে শোবিজ অঙ্গন। প্রভার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক শিল্পী ও নির্মাতা এখন প্রশ্ন তুলছেন তৎকালীন অভিযুক্ত রাজিব হাসানের বিচার না হওয়া নিয়ে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন প্রভা জানান, ভিডিও ফাঁসের পর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে যে অমানবিক সামাজিক হেনস্তা ও ট্রলের শিকার হতে হয়েছে, তা ছিল অসহনীয়। তার এই বক্তব্যের পর নির্মাতা শিহাব শাহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। তিনি প্রভার সাবেক বাগদত্তা রাজিব হাসানের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে জানান, তখন ছেলেটি যেসব কথা বলেছিল, তার সবই ছিল মিথ্যা। ঘটনার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, তখন অপরাধীর শাস্তি হওয়ার কথা থাকলেও কোনো বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং ভুক্তভোগী প্রভাকেই সমাজ নানাভাবে অপদস্থ করেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অপরাধীর কর্মকাণ্ডকে নিন্দা করেছেন।
প্রভার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিনেত্রী সিনথিয়াও সরব হয়েছেন। তিনি প্রভার সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর পর শোবিজ তারকাদের এই সোচ্চার হওয়া ইতিবাচক। তবে সিনথিয়া একই সঙ্গে আক্ষেপ করেছেন যে, ঘটনার পর অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক প্রভাকে ভালো প্রজেক্টে সুযোগ দেননি। যারা এখন প্রভার সমর্থনে কথা বলছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্যিই যদি তারা প্রভাকে নিয়ে সুশীল মনোভাব পোষণ করেন, তবে তাকে পুনরায় বড় বাজেটের কাজ দিয়ে প্রমাণ করে দিক যে প্রভা একজন ভিক্টিম।
২০১০ সালে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বের সঙ্গে প্রভা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কিছুকাল পরই তার সাবেক বাগদত্তা রাজিব হাসানের সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনাটি তৎকালীন শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং এর জের ধরে অপূর্ব ও প্রভার বৈবাহিক সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ ঘটে। ১৬ বছর পর প্রভার এই ঘুরে দাঁড়ানো এবং সহকর্মীদের সমর্থন আদায়ের বিষয়টি নতুন প্রজন্মের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হলেও সমাজ ও বিচার ব্যবস্থা ভিক্টিম প্রভার প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল হয়।