সিলেট: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি কমিউনিটি সেন্টারের তালা ভেঙে চুরির ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. কামরান আলী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রতুলি গাংকুল এলাকার ‘হাজী জামাল কমপ্লেক্স’ নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সেখান থেকে একটি ফ্রিজসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র নিয়ে যায়। পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় কমিউনিটি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার চুকারপুঞ্জি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আলী আকবরের ছেলে মো. কামরান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে কামরান চুরির কথা স্বীকার করেছেন এবং মালামাল কোথায় রাখা হয়েছে, সে তথ্য দিয়েছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ফ্রিজসহ সব মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মালামাল পরিবহণে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারে চুরির ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলাম। আমাদের তদন্তকারী অফিসার চুরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামিকে রোববার রাতেই শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।