জ্বালানির সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় আগামী চার মাসে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জি৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার মাসে মোট ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
একই সঙ্গে জি৭ভুক্ত দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। জোটের নেতারা অন্যান্য উৎপাদক দেশগুলোকেও এমন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ডিজেলের দামও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। পরে জি৭ দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানান, জি৭ দেশগুলো চার মাসে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল কৌশলগত মজুত বাজারে ছাড়ার পাশাপাশি পরিশোধনাগারগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেবে।
জি৭ নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাজারের ওপর চাপ কমাতে ডিজেল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিশোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি সমন্বয় করে একসঙ্গে একাধিক স্থাপনা বন্ধ থাকার ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভব হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জি৭-এর এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি কমানো, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ কমানো।