মেধাবৃত্তির পরীক্ষা। অথচ প্রশ্নপত্রে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় তরিকার প্রবন্ধ ও প্রতিষ্ঠাতার জীবন নিয়ে নম্বর। ভৈরবে ১৩তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, মেধাবৃত্তির আড়ালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাইজভাণ্ডারী মতাদর্শের প্রচার করা হচ্ছে। অথচ পুরো আয়োজন সম্পর্কে অবগত নয় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভৈরবের আগানগর জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার প্রায় ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। ১০টি কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা এবং মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে ১২ নম্বর রাখা হয়। আয়োজকরা স্বীকার করেছেন, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেই ওই প্রবন্ধের ওপর প্রশ্ন রাখা হয়েছে। ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে নম্বর রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইউনূস আলমগীর বলেন, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর জীবন ও দরবার শরীফের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই এসব প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কক্ষ পরিদর্শক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিছুর রহমান সাদেক বলেন, মাইজভাণ্ডারী প্রচারণা ও প্রসারের জন্যই এই মেধাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে আয়োজনের অনুমোদন নিয়েও। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক জানান, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বিষয়টি জানতেন। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাপস চন্দ্র বিশ্বাসও স্বীকার করেছেন, শিক্ষা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
ভৈরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মাইজভাণ্ডারী প্রবন্ধ থেকে প্রশ্ন রাখা শিক্ষা কারিকুলামের বাইরে। তাঁর দাবি, এ আয়োজনের বিষয়ে শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস কিংবা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেই। তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠী নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, তিনি এ আয়োজনের বিষয়ে অবগত নন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের নামে যদি নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় তরিকার জীবন, দর্শন ও প্রবন্ধ পরীক্ষার সিলেবাসে ঢোকানো হয়, তাহলে সেটি নিছক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা, নাকি মতাদর্শ প্রচারের একটি মাধ্যম এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।
আয়োজকদের দাবি, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের ফটিকছড়িভিত্তিক সংগঠন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করে আসছে। তবে ভৈরবে শিক্ষা অফিস ও প্রশাসনকে না জানিয়ে এবং অনুমোদন ছাড়াই এমন আয়োজন কীভাবে হলো, সে প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব এখনো মেলেনি।