চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সময়ে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকাতেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনের ছোট ভাই ও প্রয়াত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বেতাগী থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছান মাসুদ। অটোরিকশা থেকে নামার পর মোটরসাইকেল ও সিএনজিতে আসা ৫ থেকে ৭ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, খুব কাছ থেকে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘রায়হান বাহিনী’ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।
রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ‘প্রকাশ্যে একজন যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাউজানে অন্তত ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।