রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে প্রেমিকা হাসিনা বেগম সুমিকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাহিবুর নেত্রকোণার মদন উপজেলার কাইটাইল গ্রামের মো. মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাপ্তাইয়ে ফার্নিচারের কাজ করতেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই নতুন বাজারে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় হাসিনা বেগম সুমির (২৮) সঙ্গে মাহিবুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন মাহিবুর। একপর্যায়ে মাহিবুরের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে সুমি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এ নিয়ে ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহিবুর ইট দিয়ে সুমির মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ঘটনা আড়াল করতে সিগারেটের আগুন দিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান মাহিবুর। পরদিন ১২ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে সুমির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত মাহিবুরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাসুম বলেন, “আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। আসামির সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি, উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব।”