বাগেরহাটের রামপালে জমি-জায়গা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও রাস্তার বৃষ্টির পানি আটকানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে শেখ আহাদ আহামেদ ইতু (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় হামলায় নিহতের বাবা ও মা গুরুতর আহত হন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বাঁশতলা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত শেখ আহাদ আহামেদ ইতু ওই গ্রামের ফরিদুজ্জামান বয়াতির ছেলে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন— নিহতের বাবা ফরিদুজ্জামান বয়াতি (৬০) ও মা নাজমা বেগম (৪৮)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মাসুম বয়াতি (৫৫) ও বাকি বয়াতির জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে রাস্তার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন আটকানো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর একপর্যায়ে তা তীব্র বাকবিতণ্ডা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি আঘাতে শেখ আহাদ আহামেদ ইতু ও তার বাবা-মা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ফরিদুজ্জামানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা নাজমা বেগম বর্তমানে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।