সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা প্রত্যাহার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন করেছেন কর্মরত সাংবাদিকরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।
মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন কালবেলার সাংবাদিক এস কে সাহেদ এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ার সাংবাদিক জুবাইর আহমেদ খান রোহান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ মামলা সাংবাদিকদের হয়রানি এবং অনুসন্ধানী ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা।
সেতু সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি বলেন, বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অনিয়মের কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক মিলন পাটোয়ারী বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপসাংবাদিকতা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সিনিয়র সাংবাদিক গোকুল রায় বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার নানা অপচেষ্টা রয়েছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক হয়রানি ও সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ এবং স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।