জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রজাপতির জীবনচক্র ও আবাসস্থল সংরক্ষণে জীববৈচিত্র্যের পরিবেশ রক্ষায় গড়ে উঠেছে ‘প্রজাপতি পার্ক’। উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের তানজিম পল্লীতে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী প্রজাপতি পার্কটির উদ্যোক্তা ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হবে ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা স্বর্ণের সমমূল্যের অর্থ, ৫০ হাজার টাকার চেক, সম্মানসূচক ক্রেস্ট ও সনদপত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী নিজস্ব জমিতে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক ফসল চাষ না করে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান’। বর্তমানে সেখানে ৬০০-এর বেশি প্রজাতির প্রায় ৫ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত দেশীয় উদ্ভিদ। গবেষণা ও সংরক্ষণের জন্য সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে হারবেরিয়াম ও প্রজাপতি জাদুঘর। দেশীয় প্রজাতির শতাধিক পোষক উদ্ভিদের সমন্বয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘প্রজাপতি পার্ক’ ও ‘প্রজাপতি অভয়ারণ্য’। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০ প্রজাতির কয়েকশ প্রজাপতি রয়েছে। সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ নেটঘেরা আবাসস্থল, যেখানে প্রজাপতির ডিম পাড়া, খাদ্য গ্রহণ ও বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য এর আগেও একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন হাসমত আলী। বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে তিনি ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২৩’-এ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’, ‘গ্রিন ক্লাইমেট লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ এবং ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পুরস্কার’ সহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে শিক্ষার প্রসারে তিনি দেশের প্রথম ‘প্রাণ-প্রকৃতি পাঠাগার’ এবং ‘নিসর্গপাঠ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে ঘিরে দেশে প্রথমবারের মতো ‘শিমুল ফোটা উৎসবের’ আয়োজনও করেন তিনি।
মো. হাসমত আলী জানান, প্রজাপতির জীবনচক্র ও আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রজাপতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘ইচ্ছেশ্রম’ সংগঠনের মাধ্যমে আগ্রাসী উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম নির্মূল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা, চারা বিতরণ এবং পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। সংরক্ষিত প্রজাপতিগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও উদ্ভিদের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
কুশল/সাএ