ধানের পাতার কিছু অংশ প্রথমে বিবর্ণ হয়ে পড়ে। এরপর পাতার আগা ও প্রান্তভাগ শুকাতে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়তে থাকে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা। কৃষকরা একে বলছেন পাতাপোড়া রোগ।
জমিতে রোপণ করা ধানগাছে এ রোগ দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ধানগাছ রোগটিতে আক্রান্ত বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
রোগটি দ্রুত আশপাশের ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
শনিবার সরাই হাজীপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার কয়েকজন কৃষকের জমির ধানগাছের পাতার প্রান্তভাগ হলদে-বাদামি হয়ে শুকিয়ে গেছে। আক্রান্ত জমির ধান দূর থেকে দেখলে অনেকটা পোড়া পাতার মতো মনে হচ্ছে।
আক্রান্ত ক্ষেতের পাশে দেখা হয় স্থানীয় কৃষক আলামিন খান ও মো. আবুল হাসেমের সঙ্গে তারা জানান, তাদের প্রত্যেকের চার বিঘা করে জমির ধানক্ষেত পোড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
কৃষকরা জানান, প্রথমে ধানের পাতার কিছু অংশ বিবর্ণ হয়ে যায়। পরে পাতার আগা ও কিনারা শুকাতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
তারা বলছেন, আমন ধান তাদের অন্যতম প্রধান ফসল। এ সময় জমিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ফলন ও উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কৃষক আলামিন খানের ভাষ্য, ধানের গাছ ভালোই ছিল। হঠাৎ পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে জমির অনেক জায়গায় একই অবস্থা হয়েছে। কিভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
কৃষক মো. আবুল হাসেম বলেন, আমার প্রায় চার বিঘা জমির ধানে রোগ দেখা দিয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ফলন কমে যেতে পারে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, আক্রান্ত জমিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগটি আশপাশের জমিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত মাঠ পরিদর্শন করে রোগের কারণ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নে প্রায় ৮ বিঘা জমিতে এই রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগ জটিল হবেনা। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। কৃষকদের অসচেতনার কারণে ইউরিয়া সার বেশি ব্যবহারের জন্য এই রোগ দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করি ৫-৭ দিনের মধ্যেই এই রোগ দূর হবে।