৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ নিয়ে সতর্ক ম্যাক্রোঁ: শহরের বাইরে সমাবেশের আহ্বান

৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ নিয়ে সতর্ক ম্যাক্রোঁ: শহরের বাইরে সমাবেশের আহ্বান

ফ্রান্সে চলমান সামাজিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আগামী ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, মার্সেই সফরে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মিছিল ও সমাবেশের রুট শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা আগামী শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাঁদের পরিকল্পনায় রয়েছে ফ্রান্সের জাতীয় সংসদ ভবন ও বিভিন্ন নগর ভবনের সামনে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচি। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন ম্যাক্রোঁ।

প্রেসিডেন্ট বলেন, পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সরকারকে সতর্ক ও মনোযোগী থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, সম্পদ ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংগঠিতভাবে মাঠে থাকবে।

আসন্ন আন্দোলনের ‘তৃতীয় পর্ব’ বা ‘অ্যাক্ট থ্রি’ প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভের ঘোষিত রুট শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে রাখার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সাধারণত আন্দোলনকারীদের সংগঠকেরা সংশ্লিষ্ট নগর ভবনে মিছিলের রুটের প্রস্তাব জমা দেন। পরে প্রিফেকচার বা আঞ্চলিক প্রশাসন কর্তৃপক্ষ সেই রুট অনুমোদন করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

গত শনিবার, ২৪ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।

গত দিনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রায় ৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রশাসনের নেওয়া সংগঠিত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং কারিগরদের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে বিমা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সামাজিক আন্দোলনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ম্যাক্রোঁ। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর সঙ্গে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।

আগামী ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভকে সামনে রেখে এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং আন্দোলনের পেছনে থাকা অসন্তোষের কারণগুলো মোকাবিলা করা। প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ পরিস্থিতি কতটা সামাল দিতে পারে, তা নির্ভর করবে আসন্ন কর্মসূচি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।

শাহ রিয়ার রিজবি – ফ্রান্স প্রতিনিধি, ঢাকা ইনফো২৪

শাহরিয়ার রিজবি একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, যিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম DhakaInfo24-এর সঙ্গে যুক্ত।Shahriar Rijvi is a Bangladeshi journalist working with DhakaInfo24.