মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। এতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র “স্বল্পমেয়াদি অস্ত্র সংকটে” পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ, THAAD অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেমের প্রায় অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ, লং-রেঞ্জ JASSM মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং SM-3 ও SM-6 মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশও ব্যবহৃত হয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়পূরণে নতুন উৎপাদন বাড়ানো হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণ পুনর্গঠনে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতার সময়কাল” তৈরি করেছে, বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোনো বড় শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র এই উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং তারা প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
এদিকে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন চুক্তি হলেও অতীতের সীমিত অর্ডারের কারণে দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাৎক্ষণিক ঘাটতি পূরণে সময় লাগবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব আগেই সতর্ক করেছিল যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সহায়তা অব্যাহত থাকলে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা ও সেনেটরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি “গণিতভিত্তিক যুদ্ধ প্রস্তুতির সমস্যা” তৈরি করেছে, যেখানে নতুন মজুত ও ব্যবহার ব্যালান্স করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
