শিক্ষাঙ্গনসহ দেশব্যাপী ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ো ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি শুরু করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি ইউসুব আলীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া, অফিস সম্পাদক আসিবুর রহমানসহ প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী। সমাবেশে নেতাকর্মীরা জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘সিটি কলেজে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার ভাই আহত কেন, তারেক জিয়া জবাব দে’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলতে পারে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে একটি কলঙ্কিত দিন। এই কলঙ্ক ঘটানো হয়েছে ছাত্রদলের মাধ্যমে। আজ চট্রগ্রাম সিটি কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে আসা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর নেক্কারজনক হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। ছাত্রশিবির যখন তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়েছে, সেখানে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ছাত্রশিবির যখন গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তখন তারা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ ৫ই আগস্টের আগে ছাত্রলীগ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের উপর নির্যাতন চালাত। ছাত্রশিবিরকে মারা জায়েজ ছিল। সেই একই কাজ শুরু করেছে তারেকীয় বাহিনী। আগে ‘শিবির’ হিসেবে শিবিরকে মারা জায়েজ করেছিল, এখন ‘গুপ্ত’ হিসেবে শিবিরকে মারা জায়েজ করতে চাচ্ছে। এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে শিবিরের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর জন্য।’
সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, ‘৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি দল এই দেশকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে যেখানে সেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুন্ডামি ও মাস্তানি ছড়িয়ে দিয়েছে। অসংখ্য ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, এমনকি তাদের দলের কর্মীদেরও তারা ছাড় দেয়নি। অসংখ্য মা-বোনকে ধর্ষণের ঘটনাও আমরা দেখেছি। ঢাকার তেজগাঁও কলেজে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সর্বশেষ আজ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তারা প্রকাশ্যে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিবির কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং আমার এক ভাইয়ের পায়ের গোড়ালি রামদার আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই— এই সন্ত্রাস আমরা আর সহ্য করব না। সময় থাকতে সতর্ক না হলে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণে মনোনিবেশ না করলে ছাত্রশিবির এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে দেশ থেকে উৎখাত করবে এবং ছাত্রলীগের মতো বিতাড়িত করবে।’
