বগুড়ার শেরপুর থানায় সেবা নিতে এসে কর্তব্যরত নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় মামুন নামের এক যুবককে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। পরে মুচলেকা দিয়ে ওই যুবক মুক্তি পান। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রোখসানা খাতুন। তিনি গত ১৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে শেরপুর থানায় যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মামুন জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সকালে তিনি শেরপুর থানায় যান। সেখানে ডিউটিরত এসআই রোখসানা খাতুনকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে কথা বলতে চাইলে ওই নারী কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তাকে কোনো কারণ ছাড়াই থানায় আটকে রাখা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন যোগদানের পর থেকেই সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সাথে প্রায়ই তর্কে লিপ্ত হন। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম, হাসান, নাইম ইসলাম জানান, তিন মাস আগে ওসির সাথে দেখা করতে গেলে রোখসানা নামের এই নারী কর্মকর্তা ডিউটিতে ছিলেন। সে সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাদেরকে ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। ইমরান হোসেন নামের অন্য একজন ভুক্তভোগী বলেন, ৫ মাস আগে তার অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে আমি তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানায় কর্মরত একাধিক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল জানান, রোখসানা খাতুনের মেজাজ ও আচরণের কারণে তারা নিজেরাও তটস্থ থাকেন। যেদিন তার ডিউটি থাকে, সেদিন সহকর্মীরাও এক ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।
সাধারণ জনগণের ভাষ্য, জনগণের বন্ধু হিসেবে পরিচিত পুলিশের এমন আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তারা দ্রুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
