পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ সময় কলেজ চত্বরে থাকা ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র শিবিরকে গুপ্ত বলে তাদের কর্মকাণ্ড বিতর্কিত উল্লেখ করে গত বুধবার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে বিক্ষোভ করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মীরা। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। একইদিন অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রদল।
উভয়পক্ষ কলেজের সামনে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে দুই দল। এর মাঝে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় কলেজ চত্বরে থাকা ঈশ্বরদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে শিবিরের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ সময় কলেজ গেটে পড়ে থাকা একটি তাজা ককটেল জব্দ করে পুলিশ।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বলেন, ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীরা কলেজে বিক্ষোভ করবে এতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে আমাদের কাছে তথ্য আছে তারা বহিরাগতদের নিয়ে কলেজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। কিন্তু আমরা কলেজে যেকোনো প্রকার নৈরাজ্য প্রতিহত করবো। তারা হামলা করলে প্রতিরোধ করেছি।
সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, শিবিরকে গুপ্ত বলে তাদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে ছাত্রদল। তারা বুধবার বহিরাগতদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। সেখানে আমরা কেবল ছাত্রদের নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় আমাদের মিছিলকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়েন ছাত্রদলের কর্মীরা। আমরা সেটা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা আমাদের উদ্দেশ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।
ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন বলেন, কলেজে ছাত্রদের নানা কর্মসূচি থাকবে এটা স্বাভাবিক। বুধবার ছাত্রদল করেছে আজ ছাত্রশিবির করবে বলে আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে। তবে কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা চলছে বিধায় তাদের দুপুর ১২টায় কর্মসূচির সময় দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে কেন তারা সংঘর্ষে জড়াল বিষয়টি বোধগম্য নয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছে। বহিরাগতদের প্রবেশে শতভাগ নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করবো। সেই সঙ্গে কলেজে চলমান পরীক্ষা যথাযথভাবে চলবে। আমরা আপাতত কোনও কর্মসূচি কলেজে করতে দেব না। তবে বিস্ফোরক কোন মামলা হলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সালাউদ্দিন/সাএ
