জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে গিয়ে বিএনপির জ্বালানি ও সক্ষমতা ফুরিয়ে গেছে, অথচ মন্ত্রীরা সংসদে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।
তিনি বলেন, সরকার শুধু জ্বালানি নয়, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়েও বাস্তবতা অস্বীকার করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থে তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিএনপি সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। গত দুই মাসে সরকারের জনপ্রিয়তা যে হারে কমেছে, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধীদলীয় হুইপ বলেন, তারা দেশে অস্থিতিশীলতা চান না। তাদের প্রধান দাবি হলো গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া গণরায় বাস্তবায়ন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে যথাযথ সম্মান দেওয়া। এই দাবিতে তারা সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সক্রিয় থাকবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ একটি পরিবর্তনের আশা দেখেছে। জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল, দেশে আর কোনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, এবং সেই লক্ষ্যেই সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কিন্তু বিএনপি প্রতি পদে পদে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছিল।
একপর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে ঐকমত্য কমিশনে আসে এবং সেখানে এসেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে নোট অব ডিসেন্ট দিতে থাকে। সবশেষে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের চাপে তারা গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের গণভোটকে অস্বীকার করছে। কার্যত বিএনপি তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।
নাহিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যেভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা একই পথে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আবারও দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
কুশল/সাএ
