নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর এমপি মাসুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টায় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আলামিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬)। মামলায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নাম থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতভর ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুবদলের ৯ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন—এনায়েত উল্লাহ প্রান্ত (২৫), মো. মিজান মিয়া (২৭), মো. মিজানুর রহমান(৪৮), মো. খাইরুল ইসলাম (৩৪), ইমরান মিয়াদাদ এনায়েত(৩৪), মাহফুজুল ইসলাম শরীফ (৩২), আবু তাহের (২৬), সুমন মিয়া(২৬) এবং হুমায়ুন (৩০)। গ্রেফতারকৃতদের বর্তমানে নেত্রকোনা মডেল থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,হামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান।
উল্লেখ্য গতকাল শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় মেসার্স গিরিপথ পেট্রোল পাম্পে সংসদ সদস্য মোস্তফা মাসুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক। এসময় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মাইক্রো গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৭৫২৮) ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় সংসদ সদস্য পাম্প সংলগ্ন নামাজ ঘরে অবস্থান নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
মামলার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পূর্বধলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ
