যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামুদ্রিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ, সামরিক দস্যুতা ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আগের তুলনায় অধিক শক্তিশালী ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। অতীত সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ প্রত্যক্ষ করেছে বলেও দাবি করা হয়।
ইরানি সামরিক সদর দপ্তর জানায়, তাদের বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-এর নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় আগ্রাসন চালালে তাদের আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির ওপর হামলা চালায়, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
এর জবাবে ইরান কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ৪০ দিনে ১০০ দফা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। তবে ১১ ও ১২ এপ্রিল দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ইরানি পক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ফেরা সম্ভব নয়, কারণ চলমান অবরোধকে তারা পূর্ববর্তী সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে।
