জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমি আবারও বলছি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে, তাহলে তিনি দ্বিগুণ অপরাধ করছেন।” তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো আন্দোলনের তুলনা করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে।
তার এই বক্তব্যের পর সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধী দলীয় সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। পরে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে মন্তব্য করা অসংসদীয় এবং এটি তার নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ।
শফিকুর রহমান বলেন, “নিজের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই। আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ। আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব—এটা আমার সাংবিধানিক অধিকার।”
তিনি স্পিকারের কাছে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, যুক্তিনির্ভর ও শান্ত পরিবেশে আলোচনা হলে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় অংশ থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ঘটনাটি সংসদে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
