যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বেশ কিছু ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন তদন্তকারীরা।এ ঘটনায় প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন হত্যার পর মরদেহ পানিতে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আদালতে জামিন শুনানিতে এ কথা বলেন তারা। পরে টাম্পার হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হিশাম আবুঘরবিহকের জামিন নামঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে আসামি ২৬ বছর বয়সী হিশামকে মামলার সাক্ষী কিংবা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না করার নির্দেশও দেন আদালত।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা আসামিকে জামিন দিলে তা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করেন। পরে বিচারক আসামি হিশামের জামিন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না আসামি।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে বহু ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তাকে বাঁধা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানান জামিল ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ এপ্রিল রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুতে অন্তত ছয়বার যাওয়া আসা করেছে আসামি হিশাম। খুনের আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে মরদেহ ও তাদের জিনিসপত্র সেতু থেকে পানিতে ফেলে দিতে হিশাম এ কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তাদের বিশ্বাস জামিল ও বৃষ্টি উভয়কেই অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই হত্যা করে তাদের মরদেহ ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে গাড়িতে করে সেতুতে নিয়ে পানিতে ফেলে দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুইটি অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা। হিশামের পক্ষে একজন পাবলিক ডিফেন্ডার শুনানিতে অংশ নেন।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি অভিযুক্ত হিশামের রুমমেট ছিলেন, যিনি নিজেও ইউএসএফ-এর প্রাক্তন ছাত্র। এ ঘটনায় এখনও বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়নি।
সালাউদ্দিন/সাএ
