হোটেলের বাথরুমে নারীদের গোসল করার দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ওই দুই ক্রিকেটারকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাদের ৫ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপিতে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নারাহেনপিতার একটি হোটেলের নারী অতিথিরা অভিযোগ করেন যে, বাথরুমে থাকাকালীন মুঠোফোনের মাধ্যমে তাদের ভিডিও করা হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই ক্রিকেটারদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীলঙ্কা পুলিশ ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে জানিয়েছে, নারাহেনপিতা পুলিশ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে এই ভিডিওগুলোর কোনোটি অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে কি না। প্রাথমিক শুনানির জন্য খেলোয়াড়দের আলুতকাদে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আগামী ২৫ মে তাদের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডে (এসএলসি) এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানায়নি। তবে গত দুই দিন ধরে এসএলসি অস্থিরতার মধ্যে পার করেছে। শাম্মি সিলভার নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে অপসারণের পর সেখানে ট্রান্সফরমেশন কমিটি গঠন করেছে দেশটির সরকার।
৯ সদস্যের এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা, রোশন মহানামা এবং সিদাথ ওয়েত্তিমুনির মতো লঙ্কান ক্রিকেটের কিংবদন্তিরা। সাবেক সংসদ সদস্য এরান বিক্রমরত্নের সভাপতিত্বে এই কমিটি এখন বোর্ডের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ট্রান্সফরমেশন কমিটি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর অভিযুক্ত দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও এখন খেলোয়াড়দের নৈতিকতা এবং বোর্ডের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোই লঙ্কান ক্রিকেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ইএসপিএন-ক্রিকইনফো।
