গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিনের আস্থা ও সম্পর্ককে পুঁজি করে ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৫ বছরের পরিচিত এক ভাড়াটিয়া, যাকে পরিবারের সদস্যের মতোই বিশ্বাস করতেন বাড়ির মালিক-সেই ব্যক্তিই পরিকল্পিতভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে গেছেন।
আজ শুক্রবার (১ মে) ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর পৌরসভা-এর কেওয়া গিলারচালা (২নং সিএন্ডবি বাজার) এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশালের নতুল্লা বাসস্টেশন এলাকার মৃত হাশেম আলী হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে মজিবুর রহমানের বাড়িতে পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুইপরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে আত্মীয়তার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
মজিবুর রহমানের স্ত্রী আছমা আক্তার জানান, শুরুতে বাবুল ও তার স্ত্রী স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন। পরে অটোরিকশা কেনার কথা বলে তিনি আর্থিক সহায়তা চান। মানবিক বিবেচনায় আছমা আক্তার একটি অটোরিকশা কিনে দিলে বাবুল সেটি চালিয়ে ধীরে ধীরে টাকা পরিশোধ করেন। এতে তার প্রতি পরিবারের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।
এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই বাবুল আবার একটি সিএনজি কেনার প্রস্তাব দেন। তার কথায় আস্থা রেখে আছমা আক্তার ‘ডিএসকে’ নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন। তবে এরপর থেকেই বাবুলের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়।
কয়েকদিন আগে আছমা আক্তার পরিবারসহ বাইরে বেড়াতে গেলে সেই সুযোগে বাবুল তার পরিবার নিয়ে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান। বিকেলে ফিরে এসে তার রুমে তালা ঝুলতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু এই পরিবারই নয়—এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি টাকা ধার নিয়েছেন। স্থানীয় রুবিয়া নামের এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মুদি দোকান, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকেও ধার করে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আছমা আক্তারের পরিবার। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আয়-রোজগারের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন।
মানসিকভাবেও ভেঙে পড়া এই পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আতাবুল্লাহ বলেন, বাবুল হাওলাদারকে দীর্ঘদিন ধরে সবাই চিনতেন। একই এলাকায় বসবাসের কারণে তার প্রতি সবারই আস্থা ছিল। কিন্তু তিনি যে এভাবে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে প্রতারণা করে পালিয়ে যাবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। তার এই কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
