জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার বিনিময়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাসুদ রানা মিষ্টুর বিরুদ্ধে। তবে এই গুরুতর অভিযোগটি তদন্ত ছাড়াই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন হলের একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে হলের ইন্টারনেট সংযোগ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগী ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ‘বিজয়’-এর অভিযোগ, হল সংসদের জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু হলে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখার বিনিময়ে বাৎসরিক ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে আয়ের ১৫% কমিশন দাবি করেন। প্রতিষ্ঠানটি এই দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তারা পুনরায় সংযোগ চালু করতে বাধ্য হন।
হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, হল সংসদ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে হল সংসদের অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। আলোচনার নামে ধামাচাপা না দিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
হল সংসদ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় একটি জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তবে তদন্ত ছাড়াই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে সমাধান হতে পারে।
এ বিষয়ে হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মারুফ হোসেন বলেন, “আমরা চাই সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হোক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা জরুরি সভা ডেকেছি।”
শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট ও হল সংসদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, “তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নেই। যেহেতু একটি অভিযোগ উঠেছে, আমরা অবশ্যই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
