আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে ঝড়ে হেলে পড়া ভুট্টা এবং নিচু এলাকার বোরো ধান, পাট ও সবজি পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আলুতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কৃষকদের আশার আলো; এসব প্রধান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হবে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ডিমলা আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সবুর জানান, শনিবার রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মাঝারি ধরনের বৃষ্টি। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই এলাকায় এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান। আগাম বৃষ্টিপাতে বিপাকে পড়েছেন ভুট্টা চাষী ও বোরো চাষীরা। গত তিন সপ্তাহে গোটা জেলায় দুটি বৈশাখী ঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ভুট্টা হেলে পড়ে। এসব ভুট্টা পরিপক্ক হওয়ায় চাষীদের কোনো উৎকণ্ঠা ছিল না।
কিন্তু গত কয়েকদিনে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কোথাও মাঝারি বৃষ্টি, কোথাও বৃষ্টিমুক্ত আকাশ। তবে পুরো এলাকায় মেঘে ঢাকা থাকে আকাশ। মাঝেমধ্যে সূর্য উঁকি দিলেও উত্তাপ নেই। হেলে পড়া ভুট্টা ক্ষেত পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পাওয়ায় পচে যেতে শুরু করেছে। ভুট্টা চাষী লুৎফর রহমান লুতু জানান, মাত্র দু-এক দিন সূর্যের আলো পেলে, তিনি তার হেলে পড়া ভুট্টা সংগ্রহ করতে পারতেন। বারবার বৃষ্টির কারণে ভুট্টা সংগ্রহ করতে পারছেন না। শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। জেলার মরা নদী বুড়ি তিস্তা, ধুম নদী, বামনডাঙ্গা, দেওনাই নদী, খরখড়িয়া নদী ও ধাইজান নদীতে প্রতি বছর কৃষকরা আগাম জাতের বোরো ধান উৎপাদন করে। এসব নদীতে এবারও বোরো চাষ করেছিলেন কৃষকরা।
কিন্তু এবারে আগাম বৃষ্টিপাতে ওই মরা নদীগুলো ভরাট হয়ে ওঠে। ফলে নদীতে চাষ করা বোরো ধান নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বোরো ধান মাঠের নিচু এলাকার আধাপাকা ধান প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এসব ধানও নষ্ট হওয়ার পথে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়ের ভারী বৃষ্টিপাত ও আমাদের এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। আর সকাল ছয়টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৫১.৪১ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হয়েছে, যা বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান জানান, গোটা জেলায় গড় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বৃষ্টিপাত বেশি। আগামী দু-তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত না হলে হেলে পড়া ভুট্টার তেমন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। তিনি জানান, মাঝারি বৃষ্টিতে বোরো ১২ হেক্টর, ভুট্টা ১৭ হেক্টর, পাট ৫ হেক্টর, সবজি ১০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান।
কুশল/সাএ