রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ জুনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে।
রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, শাপলা চত্বর ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। পুলিশের সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি হেফাজতে ইসলাম-এর নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হক-এর পক্ষে অভিযোগ দাখিল করেন। এ মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
তাইম হত্যা মামলায় কনস্টেবলের জবানবন্দি, গুলি সরবরাহের তথ্য
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের বেতার কনস্টেবল নাহিদ মিয়া।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে নাহিদ মিয়া বলেন, আন্দোলন দমনে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্রাগার থেকে চায়নিজ রাইফেলের গুলি ও সিসা গুলি সরবরাহ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিনি গুলি পৌঁছে দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯ জুলাই কাজলা এলাকায় পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির একজনকে গুলি করে হত্যা করেন—এমন ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। নিহত ওই ব্যক্তি ইমাম হাসান তাইম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাইম নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন পলাতক এবং দুজন কারাগারে রয়েছেন।