টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হেমনগর জমিদারবাড়িতে একসময় দর্শনার্থীদের পদচারণা থাকলেও, দীর্ঘদিনের অবহেলা, চারপাশে আগাছা, ময়লা-আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বর্তমানে দর্শনার্থী অনেকটাই কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয় যুবক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হয়ে এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করেছেন।
জানা যায়, জমিদার হেমচন্দ্র কর্তৃক নির্মিত এই জমিদারবাড়িটি একসময় অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। উপমহাদেশের জমিদারি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে এটি আজও মূল্য বহন করে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের মূল কাঠামোসহ আশপাশের স্থাপনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। সময়মতো সংস্কার না হলে একসময় এটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে। তাই আমরা নিজেরাই কাজ শুরু করেছি। নিজেদের শ্রমে জমিদারবাড়িটির আগের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে হেমনগর জমিদারবাড়িটিকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে। বর্তমানে স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে হেমনগর জমিদারবাড়ি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক মর্যাদা।