বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে ইরান। ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে নতুন এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজকে ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ)-এর অনুমতি নিতে হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তারা এ সংক্রান্ত নথির একটি কপি হাতে পেয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ৪২টি প্রশ্নসম্বলিত একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এতে জাহাজের বর্তমান ও আগের নাম, পরিচয় নম্বর, মালিকানা, ক্রু সদস্যদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
পিজিএসএ জানিয়েছে, জমা দেওয়া তথ্য যাচাই শেষে ইমেইলের মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশনা ও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের দায় সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার টেলিগ্রাম বার্তায় বলেছেন, ‘শক্তিশালী ইরান’ কৌশলের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির কোনো জায়গা নেই। তিনি হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-এ জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, যুদ্ধপূর্ব সময়ে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে গত ৩ মে পর্যন্ত পুরো সপ্তাহে মাত্র ৪০টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এই নৌপথ ব্যবহার করে জাহাজ প্রতি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইরানের এই টোল পরিশোধ করতে পারবে না। করলে তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
কুশল/সাএ