উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ব্যক্তি উদ্যোগে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখার জাকির হোসেন মুন্সি (টাইগার জাকির) স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন “সবুজ সাথী সম্মাননা”।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র আয়োজনে এবং পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের বাস্তবায়নে শুক্রবার (৮ মে) পাথরঘাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১১ টায় পরিবেশ সমাবেশে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন আয়োজকরা।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি জাকির হোসেন এ পর্যন্ত দুই হাজার অজগর সাপ উদ্ধার ও অবমুক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চল ও লোকালয় থেকে বিপদগ্রস্ত অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করার কাজ করে আসছেন তিনি।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা-র পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকনের সঞ্চালনায় এবং পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক, পাথরঘাটা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এসমে, পাথরঘাটা কে.এম. পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম, সাংবাদিক ইমাম হোসেন, নজমুল হক সেলিম, সমাজকর্মী মেহেদী শিকদার, বদিউজ্জামান সাহেদ, যুব সদস্য নিপা সাহা প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে টাইগার জাকির-এর ভূমিকা অনুকরণীয়। বিশেষ করে পরিবেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং অজগর সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো সাহসী উদ্যোগ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। এমন কাজের কারনে তিনি এলাকায় টাইগার জাকির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে টাইগার জাকির বলেন, “আমি এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি অজগর সাপ উদ্ধার করেছি। এছাড়াও বন উজাড়, বন্যপ্রাণী নিধনের প্রতিবাদ করছি। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষকে সচেতন করতে এবং প্রাণী রক্ষায় আমি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, এ সম্মাননা আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ সম্মাননা, এ সম্মাননা আমার জন্য অনুপ্রেরণা, আমার কাজকে আরও বেগবান করবে। ধরা এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র প্রতি কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের এভাবেই মুল্যায়ন করা দরকার।