গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর এলাকায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ ও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা নিতাই প্রসাদ দাস তার মৃত বড় ভাই মহেন্দ্র প্রসাদ দাসের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, হাল খতিয়ান নং-৯১৫ এবং হাল দাগ নং-২১৫৬ সহ মোট ১৭টি দাগের জমি নিয়ে ২০১৬ সালে মুকসুদপুর সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার সিভিল রিভিশন নং-১৬৬৩/২০২২ ও সিভিল রুল নং-৪৯৯ (কন)/২০২১ এর প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট জমির সকল ধরনের কার্যক্রম, বেচাকেনা ও পরিবর্তন-পরিবর্ধনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের সকল কার্যক্রম চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃষ্ণ গোপাল বসু, জগদীশ চন্দ্র মৃধা ও অলকা রানী বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন ব্যক্তি গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে নারিকেল, সুপারি, বেল ও মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলে এবং ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়।
এ সময় নিতাই প্রসাদ দাস ও তার স্ত্রী গৌরি রানী দাস বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের কথাও বলে।
সংবাদ সম্মেলনে গৌরি রানী দাস বলেন, তিনি ২০১৬ সালের একটি রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের মাধ্যমে ১০ শতাংশ জমির বৈধ মালিক হন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে পাশের জমি বিক্রির সুযোগ নিয়ে তার দখলীয় জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে পাকা ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে এভাবে জমিতে অবৈধ কার্যক্রম চালানো হলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ ও বেচাকেনা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।