গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশে আন্ডারওয়ার্ল্ড বা ‘ডনগিরি’ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ জগত আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং চাঁদাবাজদের বেপরোয়া আচরণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় রনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। অস্ত্র ব্যবসা, মাদক পাচার, চোরাচালান ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ছাত্রলীগ বা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির ঘটনা থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী আতঙ্ক ছিল না। তিনি বলেন, তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীরা মূলত বড় উন্নয়ন প্রকল্প, কমিশন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তবে ভোটহীনতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের অভাবে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা জমে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রনি আরও বলেন, গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির চাপ বহুগুণ বেড়েছে। যেখানে আগে ৫০ টাকা দিয়ে কাজ চলত, এখন ৩০০ টাকা দিয়েও হকাররা নিরাপদ থাকতে পারছে না। রাজধানীসহ সারা দেশে অপরাধীদের সিন্ডিকেটগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ধানমণ্ডি, কলাবাগান ও নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও বাড্ডা, মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ বর্তমানে কাজ করছে।
এই তৎপরতা এখন ঢাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অপরাধী চক্রগুলো যাদের টার্গেট করছে, তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
কুশল/সাএ