দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা
‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট একটি অভিশংসন কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জানিয়েছে যে, স্পিকার এই তদন্তকারী সংস্থাটি গঠন করবেন। গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে যে, চার বছর আগে এই কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত আটকে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত পার্লামেন্ট নিয়েছিল, তা সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই অভিশংসন কমিটি রামাফোসার বিরুদ্ধে আনা তথ্য-প্রমাণগুলো পর্যালোচনা করবে।
কেলেঙ্কারিটি মূলত প্রেসিডেন্টের মালিকানাধীন একটি খামারের সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাকে কেন্দ্র করে। আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করা হবে কি না, তা নিয়ে কমিটি কয়েক মাস ধরে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেলেঙ্কারিটি ২০২০ সালের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে রামাফোসার ‘ফালা ফালা’ গেম ফার্মের একটি সোফার ভেতরে ঠাসা প্রায় ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে গিয়েছিল।
দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট কীভাবে এই অর্থ অর্জন করলেন, তিনি এর ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না এবং কেন তা ব্যাংকের পরিবর্তে আসবাবপত্রের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল- এমন নানা প্রশ্নের মুখে রামাফোস। তবে তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।
গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে, অভিশংসন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আদালতের রায়কে তিনি সম্মান করেন। তবে সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না। একটি স্বাধীন প্যানেলের প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিকে তিনি আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছেন।
রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই কেলেঙ্কারি নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার দলের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
রামাফোসার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিল দুটি বিরোধী দল- ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটারস এবং আফ্রিকান ট্রান্সফরমেশন মুভমেন্ট। ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেছে ইএফএফ।
তবে অভিশংসন কমিটির তদন্তের ফল নেতিবাচক হলেও, প্রেসিডেন্টের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ভোটে টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন।