হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভায় দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতা, দূষণ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবশেষে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
বহুদিন ধরে অবহেলায় ভরাট হয়ে পড়া খালগুলো পুনরুদ্ধারে করে শুরু হয়েছে পুনঃখনন কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে পৌরসভার ৫নং ফটিকা কামালপাড়া এলাকা থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট খালটি প্রায় দেড় কিলোমিটার খননের কাজ এখন দৃশ্যমান অগ্রগতি পেয়েছে পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি সুন্দরী খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালের ময়লা ও দূষিত পানি ও পলিথিনসহ ময়লা আবর্জনা এসে জমা হতো ছোট্ট খালটিতে। যার ফলে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানিবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও দূষিত পানির কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ কর। এমনকি, কৃষকদের অনেক জমি বছরের পর বছর চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দীন এমপির নির্দেশনায় হাটহাজারী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান রয়েছে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এসব কাজ ঠিকভাবে করছে কিনা তা আবার তদরাকি করতে মানুষ রেখেছেন। সঠিকভাবে কাজ করছেন কিনা তা রক্ষণাবেক্ষনের জন্য। একটি প্রকল্পের কাজের পেছনে কয়েকজন মানুষ দিয়ে তদারকি করছেন। যার ফলে কাজের গুনগণ মান ও টেকসই হচ্ছে বলে জানা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অতীতেও খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে এবার পরিকল্পিতভাবে খননকাজ পরিচালনার পাশাপাশি খালের দু’পাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে তারা মনে করছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হলে বহু কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতো।স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান, বর্তমান পুনঃখনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে না, বরং কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।